কারক, বিভক্তি ও অনুসর্গ : সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও উদাহরণ | বাংলা ব্যাকরণ

কারক, বিভক্তি ও অনুসর্গ 

'ক্রিয়া' শব্দের অর্থ সময় । অনাদি অতীত থেকে অনন্ত ভবিষ্যত কাল নিরবধি । এই নিরবচ্ছিন্ন কালকে সুবিধা অনুযায়ী আমরা তিন ভাগে ভাগ করি । যে ঘটনা বা ক্রিয়াটি ইতিমধ্যে ঘটে গেছে তাকে আমরা বলি অতীত ‌। আর যে ঘটনা বা ক্রিয়া এখনও ঘটেনি, কিন্তু যা অনিবার্যভাবেই ঘটবে, অথবা ঘটবার সম্ভাবনা আছে তাকে আমরা বলি ভবিষ্যত । অতীত ও ভবিষ্যত এই দুই এর মধ্যে মিলন সংযোগকারী মুহূর্তটি হল বর্তমান কাল । অর্থাৎ কালের তিনটি প্রধান ভাগঃ (ক) অতীত, (খ) বর্তমান ও (গ) ভবিষ্যত । 

কারক, বিভক্তি ও অনুসর্গ : সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও উদাহরণ | বাংলা ব্যাকরণ


ভাষা আমাদের চিন্তার বাহন ও মাধ্যম । তাই পৃথিবীর সমস্ত ভাষাতেই বিভিন্ন কালবাচক শব্দের মতোই বিভিন্ন কালে ক্রিয়ার রূপ আমরা দেখে থাকি । ক্রিয়ার ওপরেই কালের প্রভাব পড়ে এবং বিভিন্ন কালবাচক বিভক্তি ক্রিয়া গুলির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাদের বিভিন্ন কালের ব্যবহারের যোগ্যতা প্রদান করে । আবার সুক্ষ্মতার বিচারে একই কালের ক্রীয়া গত বিভিন্ন রূপভেদ দেখা যায় ।

১. বর্তমান কাল কাকে বলে? ক্রিয়ার বর্তমান কালকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ?

উঃ। অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে সংযোগকারী হলো বর্তমান । যে ক্রিয়া এখন, বর্তমানে সংঘটিত হচ্ছে, তার কালকে বলা হয় বর্তমান কাল ।

ক্রিয়ার বর্তমান কালকে চার প্রকারে ভাগ করা হয়ঃ (ক) সাধারণ বা নৃত্য বর্তমান, (খ) ঘটমান বর্তমান, (গ) পুরাঘটিত বর্তমান (ঘ) বর্তমান কালের অনুজ্ঞা ‌।

২. সাধারণ বা নিত্য বর্তমান কাকে বলে ?

উঃ। যেখানে ক্রিয়াটি স্বাভাবিকভাবে ঘটে অথবা চিরকাল ধরে ঘটে থাকে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান বা নিত্য বর্তমান বলে । সাধারণ বর্তমানে মূল ধাতুর সঙ্গে কোনো কালবাচক প্রত্যয় যুক্ত হয় না ।

৩. ঐতিহাসিক বর্তমান কাকে বলে ?

উঃ। সাধারণ বর্তমান বা নিত্য বর্তমান কালের ক্রিয়াকে অতীতকালের সংগঠিত কোন ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনায় অভিন্নরূপে ব্যবহার করলে তার কালকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলা হয় । যেমনঃ 'ভারত সরকার তাঁকে পদ্ম বিভূষণ সম্মানে ভূষিত করেন।' 

৪. ঘটমান বর্তমান কাকে বলে ?

উঃ। যে ক্রিয়ার কাজ এখনো সংঘঠিত হয়ে চলছে, তার কালকে বলা হয় ঘটমান বর্তমান । যেমনঃ মানসী ফাঁদ পাচ্ছে 

৫. পুরাঘটিত বর্তমান কাকে বলে ?

উঃ। যে ক্রিয়াটি সংঘটিত হয়ে গেলেও তার ফল এখনও বর্তমান, তার কালকে বলা হয় পুরাঘঠিত বর্তমান । যেমনঃ 'উড়ে এসেছে নানা প্রজাতির পাখি ।'

৬. অতীতকাল কাকে বলে? অতীত কালকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ?

উঃ। যে ক্রিয়া ইতিপূর্বে সংঘটিত হয়ে গেছে এবং যার রেশ বর্তমানে আর অনুভূত হয় না, তার কালকে অতীতকাল বলা হয়। 

ক্রিয়া সংঘঠন কালের বিচারে অতীত কালকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায় । যেমনঃ (ক) সাধারণ বা নিত্য অতীত, (খ) ঘটমান অতীত, (গ) পুরা ঘটিত অতীত, (ঘ) নিত্য বৃত্ত অতীত ।

৭. সাধারণ বা নিত্য অতীত কাকে বলে  ?

উঃ। যে ক্রিয়া অতীতে নিষ্পন্ন হয়ে গেছে এবং যার ফল ও বর্তমান নেই, তার কালকে সাধারণ অতীত বা নিত্য অতীত বলা হয় । যেমনঃ 'কেন ওরকম কথা বলনি' ।

৮. ঘটমান অতীত বলতে কী বোঝায় ?

উঃ। যে ক্রিয়াটি অতীতকালে সংঘটিত হচ্ছিল, তার কালকে ঘটমান অতীত বলা হয় ।

যেমনঃ 'ওই ঝামেলার মধ্যে কয়েকজন দু একটা কথা বলতে চেষ্টা করেছিলেন' ।

৯. পুরা ঘঠিত অতীত কাকে বলে ?

উঃ। অতীতকালে সংঘটিত হয়েছিল এমন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘঠিত অতীত বলা হয় । 

যেমনঃ 'ওই রকম খেয়ে খেয়েই শরীর খানা ভদ্রলোক ঠিক রেখেছিলেন' ।

১০. নিত্য বৃত্ত অতীত কাকে বলে ?

উঃ। অতীতে প্রায়ই ঘটত - এই অর্থে ক্রিয়ার যে কাল হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত বলা হয় ।

যেমনঃ 'হাতের কাছে খাবার এলেই তলিয়ে দিতাম  ।

১১. ভবিষ্যত কাল কাকে বলে ? ভবিষ্যত কালকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয় ?

উঃ। যে ক্রিয়াটি এখনও সংঘটিত হয়নি, তার কালকে ভবিষ্যত কাল বলা হয় ।

সাধারণভাবে ভবিষ্যৎ কালকে চারভাগে বিভক্ত করা হয় - (ক) সাধারণ ভবিষ্যৎ, (খ) ঘটমান ভবিষ্যৎ, (গ) পুরা ঘঠিত ভবিষ্যৎ, (ঘ) ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা  ।

১২. সাধারণ ভবিষ্যৎ বলতে কী বোঝায় ?

উঃ। যে ক্রিয়া এখনো সংঘটিত হয়নি, কিন্তু পরে নিশ্চিতভবেই হবে তার কালকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে ।

যেমনঃ বলবি, তুই দাঁড়িয়ে কথা বলছিলি ।

১৩. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাকে বলে? 

উঃ। যে ক্রিয়াটি ভবিষ্যতে সংঘটিত হতে থাকবে, তার কালকে ঘটমান ভবিষ্যৎ বলা হয়। 

যেমনঃ 'যতই বাধা আসুক, তুমি কি এগোতে থামবে না ।' 

১৪. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাকে বলে ?

উঃ। ভবিষ্যতে কোনো ক্রিয়া সম্ভবত সংগঠিত হতে পারবে - এই অর্থে ক্রিয়ার কালকে পুরা ঘঠিত ভবিষ্যৎ বলে । 

যেমনঃ 'কেউ জানবে না, কোনোদিন সে হয়ত জিতে বসে থাকবে ।'

১৫. পুরা ঘঠিত ভবিষ্যৎ কালকে সম্ভাব্য অতীত বলা হয় কেন ?

উঃ। পুরাঘটিত ভবিষ্যতের ক্রিয়াটি অতীতের ভাবও কিছুটা বহন করে আর পাশাপাশি সম্ভব্যতা ও সংশয়ের ভাব বহন করে, তাই একে সম্ভাব্য অতীতও বলা হয় ।

১৬. রুপ ও অর্থ অনুসারে কাল কয় ভাগে বিভক্ত ও কী কী ?

উঃ। রুপ ও অর্থ অনুসারে ক্রিয়ার কালকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় । যেমনঃ (ক) মৌলিক কাল বা সরল কাল এবং (খ) যৌগিক কাল ।

১৭. মৌলিক কাল বা সরল কাল কাকে বলে ?

উঃ। যেখানে ধাতুর সঙ্গে অন্য কোন ধাতু যুক্ত না হয়ে কেবল ক্রিয়া বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয় তার কালকে বলা হয় মৌলিক কাল বা সরল কাল  ।

সাধারণ / নিত্য বর্তমান, সাধারণ / নিত্য অতীত, নিত্য বৃত্ত অতীত, সাধারণ ভবিষ্যৎ - এই চারটি মৌলিক বা সরল কালের উদাহরণ ।

১৮. মিশ্র কাল বা যৌগিক কাল কাকে বলে  ?

উঃ। মূল ধাতুর সঙ্গে অন্য কোন ধাতু বা ক্রিয়া বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয় তার কালকে মিশ্রকাল বা যৌগিক কাল বলা হয়ে থাকে ।

১৯. বাংলায় যৌগিক কালের রূপ কয়টি ও কি কি ?

উঃ। বাংলায় যৌগিক কালের রূপ ছয়টি এগুলি হল - ঘটমান বর্তমান, পুরাঘঠিত বর্তমান, ঘটমান অতীত, পুরাঘঠিত অতীত, ঘটমান ভবিষ্যৎ ও পুরাঘঠিত ।

Riju Mondal — পাঠনেক্সা (Pathnexa)-এর লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর। সহজ ভাষায় শিক্ষামূলক ও তথ্যভিত্তিক বিষয় পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য।

Related Posts