সমাস
১. সমাস কাকে বলে ?
উঃ। অর্থ সম্বন্ধযুক্ত দুই বা দুইয়ের বেশি পদের মিলিত হওয়ার নাম সমাস । 'সমাস' শব্দটির অর্থ হল 'সংক্ষিপ্ত করা' ( সম্ + অস্ + ঘঞ্ = সমাস ) ।
২. সমাস পদ কাকে বলে ?
উঃ। যে কটি পদ মিলে সমাস হয় তার প্রতিটি কে বলা হয় সমস্যমান পদ।
৩. ব্যাসবাক্য কাকে বলে ?
উঃ। যে বাক্য বা ব্যাকাংশ দিয়ে সমস্যমান পদ গুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে বলে ব্যাসবাক্য । ( ব্যাস, বিগ্ৰহ = বিশ্লেষণ ) ।
৪. সমস্ত পদ কি ?
উঃ। সমাস করে যে নতুন পথটি গঠিত হয়, তাকে বলে সমস্ত পদ । হাতঘড়ি = সমস্ত পদ ।
৫. পূর্ব পদ কি ?
উঃ। সমস্যমান পদ গুলোর প্রথমটির নাম পূর্বপদ । রাজার= পূর্ব পদ ।
৬. পরপদ কি ?
উঃ। সমস্যমান পদ গুলোর শেষেরটির বা পরের পদটির নাম পরপদ বা উত্তর পদ । পরিবার ঘড়ি = বড় পথ বা উত্তর পথ । ( উত্তর = পরবর্তী ) ।
৭. সন্ধি ও সমাসের পার্থক্য
উঃ।
- সন্ধিতে সন্নিহিত ধ্বনি সমূহের মিলন ঘটে । কিন্তু সমাসে অর্থ সম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের এক পদে পরিণতি ঘটে ।
- সন্ধির ধ্বনিগত মিলন লক্ষ্য করা যায় । কিন্তু সমাসের পদগত মিলন লক্ষ করা যায় ।
- সন্ধিতে প্রতিটি পদের অর্থ অক্ষুন্ন থাকে । কিন্তু একমাত্র দ্বন্দ্ব সমাসে প্রতিটি পদের অর্থ অক্ষুন্ন থাকে । তৎপুরুষ ও কর্মধারায়। সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে। অব্যয়ীভাবে পূর্ব পদের অর্থ প্রাধান্য এবং বহু নিহিতে ইঙ্গিত রয়েছে এমন তৃতীয় একটি পদের অর্থ প্রাধান্য ।
- সন্ধিতে বিভক্তি লোপের বিষয়টি থাকে না । কিন্তু সমাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বপদের বিভক্তি চিহ্ন লোপ পায় ।
- সন্ধিতে শব্দের অর্থের কোনো পরিবর্তন ঘটে না । কিন্তু সমাসে শব্দের অর্থের অনেক রকমের পরিবর্তন হয় ।
- সন্ধিতে পথগুলির ক্রম অক্ষুন্ন থাকে । কিন্তু সমাসে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদ দুটি স্থান পরিবর্তন করে ।
- সন্ধিতে কখনই একটি শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ আসে না । কিন্তু সমাসে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি শব্দের জায়গায় অন্য শব্দ আসে।
৮. সংস্কৃত ব্যাকরণে সমাস কয়টি শ্রেণীতে বিভক্ত ?
উঃ। সংস্কৃত ব্যাকরণে অর্থ প্রাধান্য অনুসারে সমাস প্রধানত চারটি শ্রেণীতে বিভক্তঃ (ক) অব্যয়ীভাব, (খ) তৎপুরুষ , (গ) দ্বন্দ্ব, ও (ঘ) বহুব্রীহি ।
৯. বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে সমাস কয় প্রকার ও কী কী ?
উঃ। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী সমাস আট প্রকার । (ক) কর্মধারয়, (খ) তৎপুরুষ, (গ) দ্বন্দ্ব, (ঘ) বহুব্রীহি , (ঙ) দ্বিগু, (চ) নিত্য সমাস , (ছ) আলোপ সমাস ও (জ) বাক্যাশ্রয়ী সমাস ।
১০. কর্মধারয় সমাস কাকে বলে ?
উঃ। যে সমাসের পূর্বপদ সাধারণত পরপদের বিশেষণ হিসেবে থাকে এবং সমাসবদ্ধ পদে পরপদের অর্থই প্রধান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে । যেমনঃ পূর্ণ যে চন্দ্র= পূর্ণচন্দ্র। মেজো যে মামা = মেজোমামা। শ্বেত যে চন্দন = শ্বেতচন্দন ।
১১. উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও ।
উঃ। যে কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদে উপমেয় ( যার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে ) ও উত্তর পদে উপমান থাকে এবং সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে না, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে । যেমনঃ পুরুষ সিংহের মতো = পুরুষ সিংহ চরণ কমলের মতো = চরণ কমল
১২. উপমান কর্মধারয় সমাস কাকে বলে ? উদাহরণসহ লেখো ।
উঃ। যে কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ উপমান ও উত্তর পদে সাধারণ ধর্ম থাকে তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে । এখানে পূর্ব পদটি বিশেষ্য ও উত্তরপদটি বিশেষণ হয় । যেমনঃ কাজলের মতো কালো = কাজলকালো, বকের মতো ধার্মিক = বকধার্মিক ।
১৩. রূপক কর্মধারয় সমাস কাকে বলে ? উদাহরণসহ লেখো ।
উঃ। যে কর্মধারয় সমাসে পূর্বপদে উপমেয় এবং উত্তর পদে উপমান এবং এদের মধ্যে অভেদ বা অভিন্নতা কল্পনা করা হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে । যেমনঃ জীবন রূপ নদ = জীবননদ, প্রাণরূপ পাখি = প্রাণপাখি ।
